July 5, 2016

Hyderabad Bengali Film Festival : চলচ্চিত্রের উৎসব, জীবনের উপন্যাস - Soumalya Chakraborty

Hyderabad Bengali Film Festival 2016
Volunteer Team of HBFF 2016




















সিনেমার মাধ্যমে গল্প জীবন্ত হয় আমাদের সামনে. রুপোলি পর্দায় যখন অভিনেতারা হয়ে ওঠেন আমাদের পছন্দের গল্প বা উপন্যাস এর চরিত্র, আমরা দেখতে পাই বই এর পাতা নিয়েছে আলাদা রূপ. পড়তে পড়তে যা কল্পনা করেছি তার সাথে হয়তো মেলে, হয়তো মেলে না.
ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এর মুখ্য আকর্ষণ এরকম কিছু গল্পের প্রাণ-প্রাপ্তির সাক্ষী হয়ে থাকা, কিন্তু আমার কাছে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এর গল্প শুধু সেগুলোই নয়. বিগত তিন বছর HBFF এর সাথে জড়িত থেকে আমি গল্পের কিছু অসাধারণ চিত্রায়ন তো দেখেছি ই, তার সাথে পেয়েছি অনেক ছোট ছোট নতুন গল্প, যা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এর এই যাত্রা টিকে এক ধারাবাহিক উপন্যাস এর রূপ দিয়েছে...
সেই তিন বছর আগে উদগ্রীব, কিন্তু আশংকিত কিছু মুখ, সিদ্ধান্ত হলো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল করা হবে...পারবো কি? উপন্যাস এর ভূমিকা আরম্ভ...
মাসের পর মাস পরিকল্পনা, প্রচার ও নিদ্রাহীন রাতের পর আত্মপ্রকাশ করলো HBFF 2014, উপন্যাস এর প্রথম পরিচ্ছেদ. এই কাহিনীর অনেক চরিত্র-কেউ অতিথি দের দেখাশোনা করছে, কেউ venue ম্যানেজ করছে, কেউ branding আর media relations দেখছে, কেউ ticket আর finance , কেউ website বানাচ্ছে, কেউ screening এর দায়িত্বে আর কেউ গোটা প্রচেষ্টা কে সঞ্চালন করছে. এই উপাখ্যান এরা সবাই লিখতে পারে, কিন্তু এক এক জনের লেখা হবে এক এক রকম. সে অর্থে এ গল্পের prequel নেই, sequel অজানা, কিন্তু অজস্র
side-quel... 
প্রথম screening er সাথে শুরু হলো গল্পের পাতা ওল্টানো. তারপর নানা ঘটনা করে তুলেছে গল্প কে স্মরণীয়...
গাড়িতে চলতে চলতে অনন্যা চ্যাটার্জী হঠাৎ গেয়ে ওঠেন অসমীয়া গান. পিছন থেকে শেখর দাসের মন্তব্য "গান টা আরো cultivate করতে পারতে", গল্পের একটি মুহূর্ত.
Flash Mob এ সুদেষ্ণা রায় এর স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে পা মেলানো...পাঠকের মুখে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে গল্প এগিয়ে চলে...
দিনের শেষে ক্লান্ত volunteers মিটিং এ সবার প্রচেষ্টা কে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানানো...ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে পরের দিনের প্রস্তুতি...গল্পের মূলমন্ত্র
চূর্ণী গাঙ্গুলী র "নির্বাসিত" র screening শেষ...জাতীয় সংগীত এর আবহে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের চোখের কোনে জল, পাঠক কেও করে তোলে বিষন্ন. বইটি বন্ধ করে রাখা হয় পাশে, আবার পরে পড়বো
"বাবার নাম গান্ধীজি" র খুদে অভিনেতা কেঁচো যখন প্রতিষ্ঠিত দের টপকে মন জয় করে নেয় দর্শকদের, নিয়ে যায় তাদের ভালোবাসার পুরস্কার, সেই মুহূর্তে পরিচালক পাভেল এর জয়োচ্ছাস আর স্টেজে ছুটে যাওয়া পাঠক কে দেখায় নতুন আশা. বাঁচার লড়াই এর জিত
পরিচালক দেবেশ চ্যাটার্জী যখন "নাটকের মতো" র পাওয়া শ্রেষ্ঠ সিনেমার পুরস্কার হাতে নিয়ে বলেন এই জিত কারো একার নয়, গোটা বাংলা সিনেমার, তখন সেই কথায় সবার উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি, সমস্ত পরিচালকদের স্টেজে উঠে আসা...তৃতীয় পরিচ্ছেদের এক অনন্য climax
ফেস্টিভ্যাল এর সমাপ্তির পর বেশ কিছু দিন তার ঘোর এ থাকা, মাথায় তার ই চিন্তা ভাবনার ভিড়-যেসব পাঠকের বাড়িতে উৎসব হয় তাঁরা মাথা নাড়ছেন নিশ্চই? বুঝতে পেরেছেন.
পাতা উল্টে দেখা যায় আর কিছু লেখা নেই, কিন্তু শূন্য পৃষ্ঠা আছে প্রচুর. যতদিন সিনেমা আছে, সিনেমা প্রেমী দর্শক আছেন এবং আছে সিনেমা কে তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে আগ্রহী সংগঠন, সেইসব শূন্য পৃষ্ঠা ভরে উঠবে নতুন পরিচ্ছেদে, নতুন চরিত্রে এবং স্বরণীয় মুহূর্তে.

পরের অধ্যায়ে কি থাকবে তা এখনই বলা না গেলেও উপসংহার এর বার্তা দেখতে পাই. "অটোগ্রাফ" সিনেমায় নেশাগ্রস্ত প্রসেনজিৎ যেমন বলেছিলেন, "আমি অরুন চ্যাটার্জী, আমি Industry", সেই উক্তিটিকেই একটু পরিবর্তন করে এই উপন্যাস বলবে, "আমরা চলচিত্র প্রেমী, আমরা Industry"!

----------------------------------------------------------------------------------------------------------

----------------------------------------------------------------------------------------------------------
Follow Us: